শ্রী পান্ডব নির্জলা একাদশী বার্তা ২০২৫

শ্রী পান্ডব নির্জলা একাদশী মাহাত্ম্য 




🗓️ তারিখ: ৭ই জুন ২০২৫, শনিবার

📜তিথি: জ্যৈষ্ঠ মাস, শুক্লপক্ষ একাদশী

---

নির্জলা একাদশী মাহাত্ম্য 

জ্যৈষ্ঠ শুক্লপক্ষের এই একাদশী ব্রত সম্পর্কে ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে শ্রীভীমসেন ও মহর্ষি ব্যাসদেবের সংলাপে বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়।

---


মহারাজ যুধিষ্ঠির পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে জিজ্ঞাসা করেন—

> “হে জনার্দন! আমি অপরা একাদশীর মাহাত্ম্য শুনেছি, 

এবার দয়া করে জ্যৈষ্ঠ শুক্ল একাদশীর মাহাত্ম্য বর্ণনা করুন।”


পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন—

> “এই ব্রতের কথা মহর্ষি ব্যাসদেব তোমাকে বলবেন, কারণ তিনি সর্বশাস্ত্র বিশারদ।”

---

মহর্ষি ব্যাসদেবের বর্ণনা


ব্যাসদেব বললেন—

> “হে রাজন! কলিযুগের মানুষের জন্য কঠোর ধর্ম পালন করা কঠিন। তাই যেটি সহজে পালনীয় অথচ মহাফলদায়ী, সেটিই শ্রেয়।


 উভয় পক্ষের একাদশীতে উপবাস করে, দ্বাদশীতে স্নান ও শুচি থেকে শ্রীহরির পূজা করে ব্রাহ্মণদেরকে ভোজন করানোই শ্রেষ্ঠ ব্রত।

 এই ব্রত পালন করলে ধর্মহীন, পাপকর্মে লিপ্ত ব্যক্তিও যমযাতনা থেকে রক্ষা পায় ও স্বর্গলোকে গমন করেন।

---

 ভীমসেনের অসহায়তা ও নির্জলা ব্রতের প্রবর্তন


ভীমসেন বলেন—

> “হে পিতামহ! একাদশীতে উপবাস তো দূরের কথা, আমি দিনে একবারও না খেয়ে থাকতে পারি না। আমার মধ্যে 'বৃক' নামের অগ্নি সদা জ্বলে।”


তখন ব্যাসদেব বললেন—


> “যদি তুমি বছরে একটি মাত্র একাদশী পালন করো, তবে জ্যৈষ্ঠ শুক্লপক্ষের একাদশীতে জলপান ব্যতীত সম্পূর্ণ উপবাস করো। তাহলেই বারোটি একাদশীর সমান ফল লাভ হবে।”

---

 নির্জলা উপবাসের বিধান


✅ সূর্যোদয় থেকে পরদিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত এক ফোঁটা জলও গ্রহণ করা যাবে না

✅ শুধুমাত্র আচমন করা যেতে পারে

✅ দ্বাদশী ব্রাহ্ম মুহূর্তে স্নান ও পূজার পর ব্রাহ্মণ ভোজন করিয়ে নিজে ভোজন

✅ এই ব্রতের মাধ্যমে সমস্ত একাদশীর ফল লাভ হয়

✅ পাপকর্ম, ব্রতভঙ্গ ও দোষ মোচনের শ্রেষ্ঠ উপায় এই ব্রত

✅ যমদূতের স্পর্শও এই ব্রত পালনকারীর হয় না—বিষ্ণুদূতেরাই তাঁকে বিষ্ণুলোকে নিয়ে যায়


---

 এই ব্রতের পুণ্যফল

🔹 ধন-সম্পদ, পুণ্য, স্বর্গপ্রাপ্তি, যমযাতনা থেকে মুক্তি

🔹 কলিযুগে যে কোনো তীর্থস্নান, দান, জপ, কীর্তন এই ব্রতে অক্ষয় হয়

🔹 যিনি ভক্তিসহ এই মাহাত্ম্য শ্রবণ বা পাঠ করেন, তিনিও বৈকুণ্ঠধাম লাভ করেন

---

বিশেষ নামকরণ

ভীমসেন এই ব্রত পালন শুরু করায়, একাদশীটি ‘পাণ্ডব নির্জলা একাদশী’ বা ‘ভীমসেনী একাদশী’ নামে বিখ্যাত হয়েছে।



---


 জয় শ্রী পাণ্ডব নির্জলা একাদশী 

ভক্তিসহ উপবাস করুন, করুন শ্রীহরির আরাধনা—লাভ করুন দিব্য ধাম!

---

সৌজন্যেঃ কৃষ্ণ কন্ঠ জাগ্রত সৎ সংঘ পরিবার 

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ